উসূলুল ফিকহ
যে সকল ক্ষেত্রে মুসলমানরা পাশ্চাত্যের মতবাদ ও দর্শনে বেশি আকৃষ্ট ও প্রভাবান্বিত হয়েছে তা হচ্ছে তিনটি। যথা-
১. রাজনীতি।
২. অর্থনীতি।
৩. জীবনব্যবস্থা।
অধিকন্তু এগুলোই মানুষের পারস্পরিক আচার-আচরণের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এগুলোই ব্যবহারিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে অন্য সকল কিছুর চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এর কারণ হলো, ব্যবহারিক জীবনের ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে এগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে থাকে।
উক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা মুসলমানদের চিন্তা-চেতনায় এতোই ব্যাপক ও সবগ্রাসী প্রভাব বিস্তার করেছে যে, এগুলো কেবল দুনিয়াবি কার্যক্রম থেকে দ্বীনকে পৃথককারী (নাস্তিক-কম্যুনিস্ট) সেক্যুলারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটা ঐ সকল লোকদের মাঝেও বিস্তৃত হয়েছে, যারা নিজেদেরকে ‘মর্ডান মুসলমান’ বলে দাবি করে এবং অন্য লোকদেরকেও তাদের সেই ‘মর্ডান ইসলাম’ -এর প্রতি আহ্বান করে।
এই আধুনিকতার দাবিদার মুসলমানরা ঐ সকল পশ্চিমা মতবাদের উপর ইসলামের প্রলেপ দেয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছে। এ ধরণের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা এজন্য করা হয়েছে, যাতে করে ইসলামকে উদ্ভুত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যশীল বলে সাব্যস্ত করা যায়।
এর পাশাপাশি পশ্চিমাদের বিভিন্ন মতবাদকে ইসলামের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পাশ্চাত্যের ধ্যান-ধারণাকে মূলভিত্তি ধরে ইসলামের সাথে তার সম্পর্ক সৃষ্টি করার এক মহামারি সৃষ্টি হয়েছে। আর এটা বিগত দেড়শত বছর যাবত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নিবিড় সহায়তায় হয়ে আসছে।
এগুলোর উদ্দেশ্য হলো, এমন একটি নতুন ইসলামের উদ্ভব ঘটানো, যা পাশ্চাত্যের চিন্তায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে তার আপন অবস্থায় স্থিতিশীল রাখবে এবং তাকে শক্তি যোগাবে। আর মূল ইসলামের দাওয়াত থেকে লোকদেরকে দূরে তাড়িয়ে দিবে। কেননা, ইসলাম তো নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। অন্য কোনো মতবাদ বা মতাদর্শের সাথে সমঝোতা করে তার চলার কোনোই প্রয়োজন নেই। এ কারণেই ইসলাম তার অনুসারীদের উপর অন্য কোনো মতবাদের প্রভাব ও স্থায়িত্ব গ্রহণ করে না। চাই সেটা মনোজাগতিক হোক বা অর্থনৈতিক; সামরিক আগ্রাসন হোক বা রাজনৈতিক।
এজন্য আজও পাশ্চাত্যের মতবাদগুলোর ঠিকাদার হিসেবে ভূমিকা পালনকারী মুসলিম শাসকগোষ্ঠীও এই আধুনিক ইসলামের শ্লোগান দিচ্ছে এবং বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই আধুনিকতার ধোয়া তুলে, নিজেদের তৈরি শিক্ষা ব্যবস্থার সহায়তায় লোকদেরকে ইসলাম থেকে যোজন যোজন দূরে সরিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এই মূলনীতির সম্পর্ক বহুদূর গভীর। তথাকথিত ‘আধুনিক ইসলাম’ নামধারীরা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা করার জন্য যে অপকৌশল করেছে তা এই যে, পাশ্চাত্যে যখন কোনো মতবাদ আর মতাদর্শ ব্যাপকতা এবং প্রসারতা লাভ করতো, তখন সাথে সাথে এই সকল আধুনিকতার ধ্বজাধারীরা সে সম্পর্কে ইসলামী ‘নুসূস’ (শরয়ী দলীল) -এর অনুসন্ধান শুরু করত। এভাবে বহু খোঁজ করে কোনো ‘নস’ (কুরআন-সুন্নাহর দলীল) -এর সাথে যে কোনোভাবে সেই পাশ্চাত্যের দর্শনটির দূর-সম্পর্ক স্থির করে সেই মতবাদ মুসলিমদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগতো এবং এটা বলে বেড়ানো শুরু করতো যে, আরে এই মতবাদ তো ইসলাম স্বীকৃত! এটা তো ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই বিদ্যমান!
উদাহরণস্বরূপ, তারা গণতন্ত্রকে ইসলামের ‘শূরা’ সিস্টেমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে, স্বাধীন ব্যক্তি সিদ্ধান্তকে ‘আমর বিল মা’রূফ নাহি আনিল মুনকার’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ সম্পর্কে স্বাধীন মত প্রকাশ করা) হিসেবে এবং পুঁজিবাদের কট্টর নীতি ‘ব্যক্তি মালিকানার পূর্ণ স্বাধীনতা’কে ইসলাম স্বীকৃত ব্যক্তি মালিকানার সাথে তুলনা করে সেগুলোর বৈধতা দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছে। (অথচ পাশ্চাত্যের এ সকল বিষয়ের সাথে ইসলামের স্বীকৃত বিষয়গুলোর মধ্যে দ্বিমত ও পার্থক্য পূর্ণভাবে বিদ্যমান।)
আধুনিকতার লেবাসধারী ঐ সকল চিন্তাবিদগণ তাদের এই ভ্রান্ত ব্যাখ্যাসমূহ কেবলমাত্র ইসলামের শাখাগত বিষয়াদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তারা ইসলামের মূল ভিত্তিসমূহের মধ্যেও তাদের এই বিষাক্ত হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করেছে। তারা জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) এবং জেরিমি বেনথাম (Jeremy Bentham) -এর স্বেচ্ছাচারিতার থিওরি ইসলামে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে।
ইসলামী দর্শন ও মতবাদের সাথে এই সকল মতাদর্শ ও মতবাদের সীমাহীন দূরত্ব ও বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা এগুলোকে ‘মাসলাহাত’, ‘হিকমাত’, ও বিশেষ শরয়ী ফায়দার অজুহাতে ইসলামের মূল বিষয়গুলো থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে।
লোকদের মাঝে এই মারাত্মক চক্রান্তের চূড়ান্ত পরিণতি ও বীষফল এই হয়েছে যে, যে কোনো আমল ও বিধানের ক্ষেত্রে আগে ‘ফায়দা’ ও ‘ক্ষতি’ তথা স্বার্থানুকুল না ক্ষতিকর তা হিসেব করা শুরু হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে হালাল ও হারামের উপর ভিত্তি করে যে শরয়ী দিক-নির্দেশনা (গাইড লাইন) ছিল, তা ধীরে ধীরে মানুষের থেকে হ্রাস পেতে লাগল এবং এক সময় লোকেরা তা প্রায় বিস্মৃতই হয়ে গেল। হালাল-হারামের এই ভিত্তিটি লোকদের মাঝে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় পর্যায়ের বিষয়ে পরিণত হয়ে গেলো। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আগে স্বার্থ হাসিল হোক, হালাল না হারাম তা পরে দেখা যাবে। পাশ্চাত্যের মতবাদ আর মতাদর্শে চলতে চলতে এক পর্যায়ে মুসলমানদের অবস্থা এমন হতে লাগল যে, এবার ইসলামের আইন-কানুন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নিজেদের দুর্বল চিন্তা-ভাবনাকেই মূল ভিত্তি বানিয়ে ফেলার প্রবণতা শুরু হলো এবং তারা এর বৈধতা দেয়ার জন্য শরয়ী নস (দলীল) খুঁজতে লাগলো। তারা বাড়াবাড়ি করতে করতে এক পর্যায়ে এই দাবি তুললো যে, শরয়ী বক্তব্যের ক্ষেত্রে তার প্রকাশ্য দিক পালন ও সে অনুযায়ী আমল জরুরি নয়; বরং তার ‘রূহ’ ও তাত্ত্বিক (Spirit Of the text) বিষয়টিই হচ্ছে মূখ্য।
MAECENAS IACULIS
Vestibulum curae torquent diam diam commodo parturient penatibus nunc dui adipiscing convallis bulum parturient suspendisse parturient a.Parturient in parturient scelerisque nibh lectus quam a natoque adipiscing a vestibulum hendrerit et pharetra fames nunc natoque dui.
ADIPISCING CONVALLIS BULUM
- Vestibulum penatibus nunc dui adipiscing convallis bulum parturient suspendisse.
- Abitur parturient praesent lectus quam a natoque adipiscing a vestibulum hendre.
- Diam parturient dictumst parturient scelerisque nibh lectus.
Scelerisque adipiscing bibendum sem vestibulum et in a a a purus lectus faucibus lobortis tincidunt purus lectus nisl class eros.Condimentum a et ullamcorper dictumst mus et tristique elementum nam inceptos hac parturient scelerisque vestibulum amet elit ut volutpat.

Reviews
There are no reviews yet.